স্বল্পমেয়াদি সুদহার বাড়িয়ে গত ৩০ বছরের সর্বোচ্চ পর্যায়ে উন্নীত করেছে ব্যাংক অব জাপান (বিওজে)। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে আরো সুদহার বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কয়েক দশক ধরে মূল্য সংকোচনের মধ্যে আটকে ছিল দেশটির অর্থনীতি। এখন মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতি দেশটির নীতিনির্ধারকদের সুদহার বাড়ানোর পথে পরিচালিত করছে। খবর এফটি।
বিওজে গতকাল জানিয়েছে, সুদহার দশমিক ২৫ শতাংশীয় পয়েন্ট বাড়িয়ে প্রায় দশমিক ৭৫ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকটির পলিসি বোর্ডের সর্বসম্মত ভোটে সুদহার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। অর্থনীতি স্বাভাবিকীকরণ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গত বছর সুদহার বাড়ার পথে হাঁটেন বিওজের গভর্নর কাজুও উয়েদা। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল চতুর্থ দফায় সুদহার বাড়ল জাপানে।
বিওজের এ সিদ্ধান্ত বাজারে ব্যাপকভাবে প্রত্যাশিত ছিল। কারণ এ নিয়ে আগেই স্পষ্ট বার্তা দিয়েছিল জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর বিপরীতে গত বছরের জুলাইয়ে তুলনামূলক কম ইঙ্গিত থাকায় সুদহার বৃদ্ধি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করেছিল। তবে সুদহার বৃদ্ধি ও প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির ব্যয় পরিকল্পনা মিলিয়ে জাপানের রাজস্ব পরিস্থিতি চাপে পড়তে পারে। কারণ সরকারি ঋণ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের আশঙ্কার ফলে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোয় বন্ডের ইল্ড কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠে গেছে।
আর্থিক প্রতিষ্ঠান মিজুহোর চিফ ডেস্ক স্ট্র্যাটেজিস্ট শোকি ওমোরি বলেন, ‘কিছু বিনিয়োগকারী আশা করেছিলেন বিওজে আরো কঠোর বার্তা দেবে। তাই তারা একটু হতাশ হয়েছেন। তবে এবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক খুব ধীরস্থির ও পরিকল্পিতভাবে সিদ্ধান্তটি নিয়েছে। তবুও ঝুঁকি রয়েছে। সুদহার বাড়লেও ইয়েন খুব বেশি শক্তিশালী নাও হতে পারে।’
এদিকে বিওজের বিবৃতিতে বলা হয়, জনসংখ্যা কমতে থাকায় জাপানে শ্রমবাজারের চাপ এখনো তীব্র বিরাজ করছে। মার্কিন শুল্কনীতির প্রভাব সত্ত্বেও করপোরেট মুনাফা শক্তিশালীই থাকবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক আরো জানিয়েছে, জাপানি কোম্পানিগুলো আগামী বছরও মজুরি বাড়াতে পারে এবং মূল্যস্ফীতি মাঝারি গতিতে বাড়তে পারে।